একক প্রদর্শনী :অস্তিবাদের গোড়ার কথা

ভরত দাস | সহকারি অধ্যাপক, ইলামবাজার কলেজ | email: bharattantipara357@gmail.com

পঞ্চাশের দশকের কথাকার সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তাঁর সাহিত্য জগতে। মূলত একুশটি উপন্যাস এবং প্রায় পঁচাশিটির মতো ছোটগল্প তিনি লিখেছেন। পঞ্চাশের দশক থেকে ছোটগল্প লিখলেও ১৯৭০ এর আগে তিনি কোন উপন্যাসে হাত দেননি। সেই হিসেবে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘একক প্রদর্শনী’। যেটিকে আমরা তাঁর সমস্ত উপন্যাসের ভূমিকা বলেছি। কেননা এই উপন্যাসেই নির্মিত হয়েছে তাঁর নিজস্ব দর্শন। অর্থাৎ এই উপন্যাসে কীভাবে তাঁর ব্যক্তিজীবন, পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যিক মনন ও চিন্তন সংশ্লিষ্ট নতুন এক জীবনবোধ নির্মাণ করেছেন, সেটি আমাদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

‘আমি ও আমার গল্প কতকটা এক’ এমনই একটা মন্তব্য করেছিলেন সন্দীপন তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘একক প্রদর্শনী’তে। যা সতত প্রমাণিত। তিনি যেভাবে বেঁচে আছেন, সেই বাঁচাটাকেই আজীবন রচনা করেছেন। এই একজন মানুষ যিনি প্রতিটি মুহূর্তে বেঁচে আছেন এবং তাঁর চেতনায় প্রভাব বিস্তারি জগত ও জীবনকে এককভাবে অবলোকন ও সৃষ্টি করে চলেছেন। বিনষ্ট, পচনশীল এই সভ্যতায় আমরা যেভাবে বেঁচে আছি, মুখোশের আড়ালে বেঁচে থাকার সেই অন্তঃসার শূন্যতাকে, নিজের জীবনচর্যার মধ্যে তিনি উপলব্ধি করেছেন। আর তাই তাঁর রচনার বিষয় হয়ে উঠে আসে। শুধু জীবন-চর্যা বা দর্শনই নয়, পাশাপাশি তাঁর রচনার শিল্পরূপও তাঁর ব্যক্তিসত্তার অভিক্ষেপ অর্থাৎ বিষয় বিচ্ছিন্ন কোন আঙ্গিক নয়, বিষয়ের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবেই তা নির্মিত। যা আলোচ্য উপন্যাসে বিচার্য।

Read more…

দারিদ্র মোচন ও কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ

Ujjal Halder | Assistant Professor, Department of Philosophy, Ramananda Centenary College
email:ujjalrcc@gmail.com

সাধারণতঃ স্বামী বিবেকানন্দকে একজন মহান ধর্মাচার্য রূপে শ্রদ্ধা করা হয়। হিন্দু ধর্ম ও দর্শন চর্চার ক্ষেত্রে তিনি বাস্তবিকই এক সুনির্দিষ্ট অবদান রেখে গেছেন । বিশ্ববাসী হিন্দু ধর্ম ও দর্শন সম্বন্ধে ব্যাপকভাবে জানতে পেরেছে এবং হিন্দু ধর্ম ও দর্শনের মর্যাদা দিতে শিখেছে তাঁরই প্রয়াসে । তাঁর যে সকল বেদান্তের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক রচনা আছে তা আজও সমগ্র পথিবীর হাজার হাজার তত্ত্বজিজ্ঞাসু ব্যক্তিকে অনুপ্রাণীত করে থাকে । কিন্তু এটাও সর্বজনবিদিত যে, ধর্মীয়, তাত্ত্বিক এবং ধর্মাচার্য অপেক্ষা তাঁর বড় পরিচয় – তিনি একজন মানব প্রেমিক, মানবসেবায় নিবেদিত প্রাণপুরুষ । একজন মানব প্রেমিক হিসাবে তাই দেশের মানুষের যে অর্থনৈতিক দুর্দশা , দু-বেলা দু-মুঠো অন্নের জন্য দেশের মানুষের হাহাকার তাঁকে ব্যথিত করেতুলেছিল । স্বামীজী যখন বিশ্বপরিক্রমা করেন তখন তিনি সর্বত্র গণজীবনের সংস্পর্শে আসেন এবং বিভিন্ন দেশের বিচিত্র মানবগোষ্ঠীর বিভিন্ন বিশ্বাস , ধর্ম , নৈতিক আচরণ , নিয়মশৃঙ্খলা , বিধিনিয়ম , প্রথা-প্রতিষ্ঠান , আর্থিক সংগঠন প্রভৃতি সব দিক সযত্নে আয়ত্ত করেছিলেন, অগণিত সাধারণ মানুষ – শ্রমিক, কৃষক, শিল্পী প্রভৃতি সকলের আশা-আকাঙ্খা, সমস্যাদির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন । তাঁর এই সমাজ দর্শনের মূলে আছে প্রাচীন বেদান্ত দর্শন , এখানে দেখা যায় বেদান্ত আর মোক্ষশাস্র হয়ে নেই , এর গভীর তাৎপর্য উদঘাটনে একটি অগ্নিগর্ভ বিপ্লব-দর্শন হয়ে উঠেছে। শ্রীরামকৃষ্ণের বেদান্তভিত্তিক ‘জীবই শিব’ বাণীর পরিপেক্ষিতেই এটা ঘটেছে। স্বামী বিবেকানন্দের যে সমাজদর্শন মূলতঃ এই বিপ্লব বা রূপান্তরের দর্শন ।

Read more…

Publisher: Dr Ramsankar Pradhan,
Teacher-in-Charge
Ramananda Centenary College, Laulara, Purulia,
West Bengal -723151
Designed & Developed by technoservices